কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০৪:৩৩ PM

ফাউন্ডেশন পরিচিতি

কন্টেন্ট: পাতা

একটি জাতির আত্মপরিচয় ফুটে ওঠে তার শিল্প ও সংস্কৃতিতে। বাংলাদেশের লোক ও কারুশিল্প কেবল আমাদের অলঙ্করণ নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় সত্তার স্বকীয়তা ও গৌরবময় অতীতের এক জীবন্ত স্মারক। হাজার বছরের আবহমান বাংলার লোকজ জীবনধারা, প্রাত্যহিক জীবনাচারের সহজাত নান্দনিকতা এবং এ দেশের মানুষের স্বপ্ন-সাধ—সবকিছুরই এক নিবিড় প্রতিফলন ঘটেছে আমাদের কারুশিল্পের বৈচিত্র্যময় নিদর্শনে।

বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো সোনারগাঁও। সুলতানি আমলের রাজধানী থেকে শুরু করে বারো ভূঁইয়াদের শাসনকাল পর্যন্ত প্রায় তিনশত বছর সোনারগাঁও ছিল বাংলার প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বিশেষ করে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁর বীরত্ব এবং বিশ্ববিখ্যাত মসলিন কাপড়ের আভিজাত্য সোনারগাঁওকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। মসলিনের সেই সূক্ষ্ম কারুকাজ আজও বাংলার কারুশিল্পীদের সৃজনশীলতার চরম উৎকর্ষের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।

অতীতের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর বর্তমানকে দাঁড় করানো এবং সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের সঠিক দিশা খুঁজে পেতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অনুধাবন করেছিলেন যে, শেকড়কে ভুলে কোনো জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। তাই তিনি আমাদের সোনালি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটাতে ঐতিহাসিক সোনারগাঁওকেই বেছে নিয়েছিলেন এই ফাউন্ডেশনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে। তাঁর এই দূরদর্শী চিন্তাই আজ বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করছে।

কারুশিল্পের উন্নয়ন ও শিল্পীদের অধিকার সুরক্ষায় ১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আইন (১৯৯৮ সনের ৮ নং আইন)’ প্রণীত হয়। এই আইনের ৭ (চ) উপ-ধারায় কারুশিল্পের প্রসারে উৎসাহ প্রদানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের মূল কার্যাবলি ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে:

  • সংগ্রহ ও সংরক্ষণ: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজ নিদর্শনগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করা।
  • গবেষণা ও প্রকাশনা: কারুশিল্পের উদ্ভব ও বিবর্তন নিয়ে মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করা।
  • প্রদর্শন ও মেলা: লোকজ মেলার আয়োজন এবং যাদুঘরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরা।
  • পৃষ্ঠপোষকতা: কারুশিল্পীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করা।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জামদানি, নকশি কাঁথা, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, রিকশাচিত্র এবং শীতল পাটির মতো অমূল্য সম্পদগুলো আজ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই দেশি-বিদেশি পর্যটক ও গবেষকদের কাছে সমাদৃত হচ্ছে। লোক ও কারুশিল্পের এই পুনর্জাগরণ কেবল শিল্পীদের উন্নয়ন নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় চেতনারই এক মহিমান্বিত উত্তরণ।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন