কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০৩:২৯ PM
কন্টেন্ট: পাতা
এক নজরে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন
স্থাপিত
1975 mv‡ji 12 gvP© GK cÖÁvcb e‡j evsjv‡`k †jvK I Kviæwkí dvD‡Ûkb cÖwZwôZ nq|
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
evsjv‡`‡ki HwZn¨evnx †jvK I Kviæwk‡íi msMÖn, msi¶Y, cÖ`k©b, M‡elYv I cybiæ¾xeb|
অবস্থান
bvivqYMÄ †Rjvi †mvbviMvuI Dc‡Rjvq| ivRavbx XvKv †_‡K 25 wK‡jvwgUvi c~‡e© XvKv- PÆMÖvg gnvmoK †_‡K cÖvq 1 wK‡jvwgUvi Af¨šÍ‡i Aew¯’Z|
মোট আয়তন
56 GKi ev 168 weNv
অভিলক্ষ্য
অনুসন্ধান,সংগ্রহ,গবেষণা ও মান উন্নয়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী লোককারুশিল্পের উৎকর্ষ সাধন ও প্রসার
রূপকল্প
ঐতিহ্যবাহী লোককারুশিল্প অনুরাগী সংস্কৃতিমনস্ক জাতি
আইন
1998 mv‡ji 6 †g gnvb RvZxq msm‡` Ôevsjv‡`k †jvK I Kviæwkí dvD‡Ûkb AvBb 1998 (1998 m‡bi 8 bs AvBb)Õ wk‡ivbv‡g AvBb cÖYxZ nq| G AvB‡bi AvIZvq dvD‡Ûk‡bi hveZxq Kg©KvÛ cwiPvwjZ nq|
প্রবিধানমালা
2023 mv‡ji 02 ‡g Ôevsjv‡`k †jvK I Kviæwkí dvD‡Ûkb (Kg©KZ©v/ Kg©Pvix) cÖweavbgvjv-2023Õ wk‡ivbv‡g cÖweavbgvjv cÖYxZ nq| G cÖweavbgvjvi/ wb‡qvMwewai AvIZvq dvD‡Ûk‡bi mKj Kg©KZ©v-Kg©Pvixi wb‡qvM,c‡`vbœwZ BZ¨vw` welq m¤úvw`Z n‡”Q |
পেনশনবিধি
3 Ryb 2012 evsjv‡`k †M‡R‡U Ô†jvK I Kviæwkí dvD‡Ûk‡bi Kg©Pvixi (Aemi I Avby‡ZvwlK) cÖweavbgvjv-2012Õ wk‡ivbv‡g †cbkbwewa Aby‡gvw`Z n‡q‡Q| Aby‡gvw`Z G cÖweavbgvjvi AvIZvq dvD‡Ûk‡bi Kg©KZ©v-Kg©PvixMY miKvwi wewa †gvZv‡eK †cbkb myweav cv‡”Qb|
জনবল কাঠামো

চলমান কার্যক্রমসমূহ
†jvKKviæwk‡íi wb`k©b msMÖn I msiÿY
†jvKR †gjv I cÖ`k©bx Av‡qvRb
wkívPvh© Rqbyj AvRxeb m¤§vbbv cÖ`vb
Kviæwkíx c`K cÖ`vb
‡jvK I Kviæwkí D‡`¨v³v cyi¯‹vi cÖ`vb
‡jvK I Kviæwkí Ziæb wgwWqvKg©x †d‡jvwkc cÖ`vb
gv÷viµvdUmg¨vb, Kviæwkíx I D‡`¨v³v cÖwkÿY
Kviæwkíx Rwic
M‡elYv I cÖKvkbv
WKz‡g‡›Ukb I K¨vUvjM ‰Zwi
RvZxq Abyôvb I Drmevw` Av‡qvRb
ডিজিটাল সেবাসমূহ
B-wUwKwUs (AdjvBb/AbjvBb)
†gvevBj A¨vcm
Kviæwkíx evZvqb
IVR Based †ní‡W¯‹
jvB‡eªwi g¨v‡bRg¨v›U mdUIq¨vi
ইআরপি সফটওয়্যার
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক/ইউটিউব)
দর্শনার্থী সংখ্যা
বছরে প্রায় ৮ (আট) লক্ষাধিক দর্শনার্থী ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন
চলমান উন্নয়ন প্রকল্প
মোট বাজেট: প্রায় ১৬০ কোটি টাকা
প্রধান অঙ্গসমূহ: জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ, ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ, অডিটোরিয়াম নির্মাণ, ডাকবাংলো নির্মাণ, শান বাধানো লেকের পাড়, পার্কিং এলাকা সম্প্রসারণ ও ভূমি উন্নয়ন
নিদর্শন সংখ্যা
ফাউন্ডেশনে সংরক্ষিত মোট নিদর্শন সংখ্যা: ৪৮০৪ টি
গ্যালারিতে মোট প্রদর্শিত নিদর্শন সংখ্যা: ১১২০ টি
স্টোরে সংরক্ষিত মোট নিদর্শন সংখ্যা: ৩৬৮৪ টি
লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মোট বইয়ের সংখ্যা
১২৫৫১টি
লোককারুশিল্প মাধ্যম
০১ জামদানি ০২ মৃৎশিল্প ০৩ পোড়ামাটির ফলকচিত্র ০৪ বস্ত্রশিল্প ০৫ ব্যবহারিক ধাতবশিল্প ০৬ অলঙ্কৃত ধাতবশিল্প ০৭ খোদাইশিল্প ০৮ আলপনা | ০৯ নকশি কাঁথা ০৯ শখের হাঁড়ি ১০ পাটিশিল্প ১১ দারুশিল্প ১২ পাখাশিল্প ১৩ সিকাশিল্প ১৪ শোলাশিল্প ১৫ শঙ্খশিল্প | ১৬ বাদ্যযন্ত্রশিল্প ১৭ নৌশিল্প ১৮ অলঙ্কার বা গহনাশিল্প ১৯ পুঁতিশিল্প ২০ বাঁশশিল্প ২১ রিকশাচিত্র ২২ চিনিটিকরি |
ফাউন্ডেশন পরিচিতি ও কার্যক্রম
১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্পের সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, গবেষণা এবং হারিয়ে যাওয়া শিল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা।
ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান কাজ লোকশিল্প এবং কারুশিল্পের মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি এবং সেগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। আমাদের সংগ্রহে রয়েছে নানা ধরনের লোককারুশিল্প যেমন— জামদানি, শীতলপাটি, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, বাঁশ-বেত, শতরঞ্জি, তামা-কাসা-পিতল, নকশি কাঁথা, নকশি পাখা, শোলাশিল্প, রিকশা পেইন্টিং ইত্যাদি। কারুশিল্পীরা কোনো ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বিশেষ কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেদের দক্ষতা আর শৈল্পিক ধারণা দিয়ে এই শিল্পকর্মগুলো তৈরি করেন। তাদের পরবর্তী প্রজন্মও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। কারুপণ্যগুলো তৈরিতে নান্দনিকতার পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকের উপরও জোর দেওয়া হয়। লোকজ গঠন, বিষয়বস্তু এবং নির্মাণশৈলীর কারণে এগুলোকে লোকশিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোককারুশিল্প বিশ্বব্যাপী নিজস্ব পণ্য হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। লোককারুশিল্প আমাদের শুধু ঐতিহ্যের প্রতীকই নয়, আমাদের গর্বেরও অংশ। লোকজ কারুপণ্যের প্রায় সবই পরিবেশবান্ধব। হাতের নাগালে থাকা মাটি, বাঁশ, বেত, কাপড়, কাঠ ইত্যাদি কাঁচামাল দিয়ে তৈরি করা হয়। এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্বব্যাপী এর ব্যপক চাহিদা রয়েছে।
তবে দুঃখের বিষয় প্লাস্টিক এবং আধুনিক যন্ত্রের কারণে আমাদের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় মানুষ দৈনন্দিন জীবনে মাটি, বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি জিনিসপত্র বা তৈযসপত্র ব্যবহার করত। কিন্তু ধীরে ধীরে সস্তা প্লাস্টিক ও আধুনিক যন্ত্রে তৈরি পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ায় কারুশিল্পীদের উপার্জন ক্ষমতা কমে গেছে এবং তারা তাদের পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের পরবর্তী প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। দেশের এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কারুশিল্প এবং কারুশিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের কাছে লোকশিল্প ও কারুশিল্প তুলে ধরতে আমরা সারাবছর বিভিন্ন মেলা, প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করি। এসব আয়োজনের ফলে কারুশিল্পীরা তাদের পণ্য লাভজনক মূল্যে বিক্রি করতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকেও এই শিল্পে আগ্রহী করে তোলা সম্ভব হয়। ফাউন্ডেশন কারুশিল্পীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও কাজ করছে। তাদের কাজ ও অবদানকে সম্মান বা স্বীকৃতি জানাতে প্রতিবছর বিভিন্ন বিভাগে সেরা কারুশিল্পীদের পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
ঐতিহাসিক বড় সর্দারবাড়ি
সোনারগাঁওয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বড় সর্দারবাড়ি স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। এটি প্রায় ছয়শো বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক কাঠামোর বিরল উদাহরণ। ভবনটির নির্মাণশৈলী ও কারুকার্যে এক অসাধারণ সৌন্দর্য পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাক-ইসলামিক, প্রাক-মুঘল, বারো ভূঁইয়া এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক—এই চারটি স্থাপত্যশৈলীর এমন সমাবেশ একটি মাত্র ভবনে দেখা খুবই দুর্লভ। পুরো কমপ্লেক্সের পূর্ব ও পশ্চিমে রয়েছে ইটের দেয়াল দিয়ে পাড়বাঁধানো পুকুর। ভবন থেকে ব্যবহার করার জন্য প্রতিটি পুকুরে আছে দুটি রাজকীয় ঘাটলা। বাংলায় 'সর্দারবাড়ি' বলতে বড় ব্যবসায়ীর বাড়িকে বোঝায়।
দ্বিতলবিশিষ্ট এই বাড়িটি তিনটি অংশে নির্মিত। এর আয়তন প্রায় ২৭,৪০০ বর্গফুট এবং এতে মোট ৮৫টি কক্ষ রয়েছে। ভবনের কেন্দ্রে থাকা লাল রঙের বর্গাকার অংশটি মুঘল স্থাপত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। বড় সরদারবাড়ির ভেতরের কক্ষগুলো আসবাবপত্র রাখার জন্য বেশ ছোট। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই ভবনটি মসলিন বা জামদানি বুননের কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যেহেতু সোনারগাঁও অঞ্চলটি তৎকালে মসলিন ও জামদানির জন্য বিখ্যাত ছিল, তাই পার্শ্ববর্তী পানাম নগরকে কেন্দ্র করে বিকিকিনির একটি বড় বাজার গড়ে উঠেছিল।
বড় সরদারবাড়ি কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি ঐতিহ্যবাহী অলংকরণশৈলী দ্বারা সজ্জিত, একে বলে ‘চিনি টিকরি’। এটি আসলে চকচকে চিনা বাসনকোসন ও রঙিন কাচের টুকরা দিয়ে তৈরি একধরনের মোজাইক কাজ। ব্রিটিশ যুগের শুরুতে পুরান ঢাকায় প্রথম চালু হয় এই মোজাইক কৌশল। এছাড়াও বড় সরদারবাড়ির ইটের দেয়ালের গাঁথুনি ও প্লাস্টারে প্রাচীণ পদ্ধতি চুন–সুরকির মর্টার ব্যবহার করা হয়েছে।
একসময়ের প্রায় জরাজীর্ণ ভবনটির রেস্টোরেশন কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর এটি পুনরুদ্ধার হওয়ায় এর হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে। এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন গবেষক ও স্থপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ। প্রায় বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান কোম্পানি (Youngone Company)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ভবনটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়।