কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১১:০৯ AM

মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ

কন্টেন্ট: পাতা

সোনারগাঁওয়ের নীল আকাশের নিচে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যেন এক সবুজ সর্গরাজ্য, যেখানে প্রকৃতি তার সমস্ত মাধুর্য নিয়ে অকৃপণভাবে বিলিয়ে দিয়েছে নিজেকে। ১৬৮ বিঘা আয়তনের এই বিশাল প্রাঙ্গণ কেবল এক টুকরো ভূখণ্ড নয়, বরং ইটের জঙ্গল থেকে মুক্তি পাওয়া এক নিবিড় অরণ্য-বিলাস।

এখানে এলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন এক মায়াবী চাদরে জড়িয়ে রেখেছে পুরো চত্বরকে। চারদিকে আম, জাম, কাঁঠাল আর লিচুর ছায়াঘন আভিজাত্য; তার মাঝে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গর্জন, অর্জুন আর মহুয়ার মতো প্রাচীন বৃক্ষরাজি। বসন্তের দুপুরে যখন পলাশ, শিমুল আর সোনালু তার রঙের আগুন ছড়ায়, তখন পথের ধারে ঝরে পড়া বকুল আর কদম ঘ্রাণে পথিকের মন আকুল করে তোলে। এই বৃক্ষপল্লবের নিভৃত কোণে বাসা বেঁধেছে দোয়েল, শ্যামা, শালিক আর টিয়াদের দল। তাদের অবিরাম কলকাকলি আর কোকিলের কুহুতান যেন এই প্রাঙ্গণের নিজস্ব এক সঙ্গীত, যা নাগরিক ক্লান্তি নিমেষেই ধুয়ে দেয়।

প্রাঙ্গণের বুক চিরে বয়ে গেছে ৫২ বিঘার এক বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন লেক। স্বচ্ছ সেই সলিল-দর্পণে প্রতিচ্ছবি আঁকে আকাশের মেঘদল। লেকের শান্ত জলে সাদা আর লাল শাপলার মেলা, আর শালুকের উঁকিঝুঁকি যেন এক জলজ আলপনা। শীতের কুয়াশাভেজা ভোরে দূর-দূরান্তের শীতপ্রধান দেশ থেকে উড়ে আসা অতিথি পাখিদের ডানার ঝাপটা আর কিচিরমিচির শব্দে লেকের জল হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল।

এই নিস্তব্ধ জলরাশির বুকে নৌকায় ভেসে বেড়ানো যেন সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া। কেউবা শান্ত দুপুরে বড়শি হাতে লেকের পাড়ে বসে খুঁজে পান ধ্যানের গভীরতা। আমলকী, হরিতকী আর চন্দনের স্নিগ্ধ বাতাস যখন এই চত্বরে খেলা করে, তখন মানুষ আর প্রকৃতি যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন তাই কেবল এক জাদুঘর নয়, এটি এক জীবন্ত সবুজ ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি পাতা আর পাখির ডাক আমাদের মাটির শেকড়ের কথা বলে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন