নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাসব্যাপী লোকজ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক এস এম রেজাউল করিম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণগ্রন্থাগারের মহাপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. ইব্রাহিম ও সোনারগাঁ থানার ওসি মাহবুব আলম।
বাংলার লোকায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পূনরুজ্জীবনের লক্ষে প্রতি বছর প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ের লোক শিল্প ফাউন্ডেশন চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। উৎসবের শেষ দিনে ছিল ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়।উৎসবে অংশ নেয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫৫ জন কর্মরত কারুশিল্পীকে সমাপনী দিনে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সনদ, ক্রেস্ট ও আর্থিক সম্মানী প্রদান করা হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন লোকসংগীত শিল্পীরা।
এবারের উৎসবে রংপুরের শতরঞ্জি, মুন্সিগঞ্জের শীতলপাটি, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা ও টেপাপুতুল শিল্প ঝিনাইদহ ও মাগুরার শোলাশিল্প, মানিকগঞ্জের বাঁশের কারুশিল্প, সোনারগাঁওয়ের কাঠের হাতি-ঘোড়া ও কাঠখোদাই কারুশিল্প, চট্টগ্রামের তালপাতার পাখা পাটজাত কারুশিল্প, মানিকগঞ্জের তামা-কাঁসা ও পিতলের কারুশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি, সোনারগাঁওয়ের নকশিকাঁথা, , ঠাকুরগাঁওয়ের বাঁশের ঢালা-কুলা,সিলেটের মণিপুরী তাঁতশিল্প, সোনারগাঁওয়ের নকঁশি হাতপাখা, একতারা শিল্প, খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃ-গাষ্ঠীর কারুপণ্য, মুন্সীগঞ্জের পটচিত্র, সোনারগাঁওয়ের কামারশিল্প, কুমিল্লার বাঁশি শিল্প, তাঁতের জামদানী শাড়ি ও সিলেটের মণিপুরী তাঁতশিল্পসহ কারুপন্যের বাহারি আয়োজন ছিল এ উৎসবে।লোকজ উৎসবে কারুশিল্পের পাশাপাশি আবহমান বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীন খেলাধুলা ও গ্রামীন বাংলার চিরায়ত রীতিনীতি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শানার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।এছাড়াও উৎসবে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, বায়াস্কোপ ও নাগরদোলার আয়োজন।
উৎসবে অংশ নেয়া কারুশিল্পীরা জানান, এবছর ক্রেতা দর্শনার্থীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এছাড়া ও কারুপণ্য নিয়ে তাদের অনেক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। করোনার জন্য বিগত বছরগুলোতে তেমন বেচাবিক্রি না হলেও এবার ভাল বিক্রি হয়েছে।এবারের উৎসবে প্রায় দেড় লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছিল। কর্মরত কারুশিল্পীসহ পুরো উৎসবে আনুমানিক সাড়ে ছয় কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে।